Khonj [Dot] live

August 25, 2026
Views: 81
Id: 16230

uterus

  • Report
    Report This Listing
    Login Required
  • Download
  • Print
  • Bookmark
  • Share This Listing
images
images
images
thumbnailthumbnailthumbnail
Description:

“মেয়েদের জরায়ু যদি ‘দুঃখী’ হয়, সে ডাইনি হয়। আর যদি ঠিক সময়ে পুরুষের সঙ্গে মিলন না ঘটে, সন্তানধারণ না হয়, তা হলে জরায়ু নাকি ক্ষেপে গিয়ে শরীরের ভিতর ঘুরে বেড়িয়ে নানা লক্ষণ তৈরি করতে পারে! Wandering uterus!”

আজ্ঞে না, এগুলো আমার কথা নয়। প্লেটো, অ্যারিস্টটল, হিপোক্রেটিসদের সময়েও এমন ধারণা ছিল।

দিনকয়েক আগে আমার নন-ফিকশন ‘উড়ন্ত ইউটেরাস’ প্রকাশিত হওয়ার খবরের পর থেকেই নানা প্রশ্ন মেডিকেল ব্যাকগ্রাউন্ডের মানুষ না হয়ে কীভাবে এই বই লেখার সাহস পেলাম?

আজ সেই গল্পটাই বলি।

বছরখানেক আগে এক কঠিন সময়ে উত্তরবঙ্গের এক নির্জন গ্রামে গিয়ে আলাপ হয়েছিল প্রবীণ ও বিশিষ্ট চিকিৎসক ডাঃ বাণী কুমার মিত্রের সঙ্গে। তিনি শুধু কিংবদন্তী চিকিৎসক নন, ডাঃ সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের ছাত্রও।

এই বইয়ের শুরু কোনও লাইব্রেরি, মেডিকেল জার্নাল বা হাসপাতালের করিডোরে নয়।শুরু হয়েছিল তাঁর সঙ্গে কয়েকদিনের দীর্ঘ, নিভৃত আলাপচারিতায়।

নারীশরীরকে ঘিরে আমাদের সমাজে কত ভুল ধারণা, ভয়, অপবাদ আর চাপা যন্ত্রণা যে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে জমে আছে, সেই কথাগুলো তাঁর কাছ থেকেই নতুন করে বুঝতে শুরু করি।

ঋতুস্রাব, জরায়ু, ব্যথা, গর্ভধারণ, গর্ভপাত, বন্ধ্যাত্ব, menopause, hysterectomy, IVF এই শব্দগুলোর সঙ্গে শুধু জীববিজ্ঞান নয়, জড়িয়ে আছে লজ্জা, সামাজিক চাপ, পারিবারিক নিপীড়ন এবং বহু পুরোনো ভুল বিশ্বাস।

একদিন প্রাতরাশের টেবিলে তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, “হিস্টেরেকটমি কী?”

তিনি শান্তভাবে বলেছিলেন,
“তার আগে আপনাকে কিছু পুরনো গল্প বলি। শুনবেন?”

তারপর খুলে গিয়েছিল এক বিস্ময়কর ইতিহাস।

প্রাচীন মিশর থেকে গ্রিক চিকিৎসাশাস্ত্র একসময় বিশ্বাস করা হত, নারীর জরায়ু শরীরের ভিতর ঘুরে বেড়ায়। কোথাও সেটাকে যৌনজীবন, সন্তানধারণ বা ‘অসম্পূর্ণ’ নারীত্বের সঙ্গে যুক্ত করা হল। পরে সেই ধারণার সঙ্গে যুক্ত হল hysteria, পাপ, demonology, এমনকি witchcraft-ও।

নারীর অজানা শারীরিক বা মানসিক কষ্টকে বোঝার বদলে তাকে কখনও “wandering uterus”, কখনও “hysteria”, কখনও “ডাইনি” বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।

কিন্তু ইতিহাস শুধু অন্ধকারের নয়। ধীরে ধীরে চিকিৎসাবিজ্ঞান জরায়ু-কেন্দ্রিক ব্যাখ্যা থেকে মস্তিষ্ক, স্নায়ুতন্ত্র, trauma ও মানসিক চাপের দিকে এগিয়েছে। শার্কো, ব্রিকেটসহ বহু চিকিৎসকের গবেষণায় বদলেছে হিস্টিরিয়া সম্পর্কে ধারণা।

ডাঃ মিত্র আমাকে বলেছিলেন.....

“কোনও মেয়ের complaint-কে প্রথমেই exaggeration ভাবা চলবে না। infertility-তে শুধু মেয়েটাকে দোষী ভাবা যাবে না। male factor, age, ovarian reserve, uterine factor, tubal factor সব দেখতে হবে। আর কোনও রোগিণী emotional হলেই তাকে ‘হিস্টিরিক্যাল’ বলে dismiss করা যাবে না।”

সেদিন বুঝেছিলাম, reproductive medicine নিয়ে লিখতে গেলে শুধু IVF-এর ইতিহাস লিখলেই হবে না। লিখতে হবে নারীর শরীরকে বোঝার, ভুল বোঝার এবং তার যন্ত্রণাকে নীরব করে দেওয়ার ইতিহাসও।

আর সেই গল্পের পরের প্রশ্নটাই আমাকে নিয়ে গেল আরও গভীরে....

যে সমাজ হাজার হাজার বছর ধরে নারীর শরীরকে কখনও wandering uterus, কখনও hysteria, কখনও witchcraft হিসেবে দেখেছে, সেই সমাজে ডাঃ সুভাষ মুখোপাধ্যায় IVF নিয়ে এলেন কীভাবে? আর তাঁর ছাত্র হিসেবে ডাঃ বাণী কুমার মিত্র IVF-কে কীভাবে দেখেছিলেন?

সেখান থেকেই শুরু ‘উড়ন্ত ইউটেরাস’-এর আসল যাত্রা।

Contact Information

Post New Review

Related Listings
Shedule a Test Drive
[dhvc_form id="2578"]
Apply For TradeIn With Us
[dhvc_form id="2578"]
Send Your Offer
Send Message