সংবাদ / তথ্য
VIP FEATURED
ID: KJ-20260925-0056
25 Sep 2026, 09:27 AM
240 ভিউ
দ্বিভাষিক বিজ্ঞাপন রিডার
মানুষ
বিজ্ঞাপনের বিস্তারিত বিবরণ (Details)
মানুষকে গিল্টি-ফিল করানোর জন্য পৃথিবীতে যত পদ্ধতি আছে, তাদের মধ্যে একেবারে এক নম্বরে থাকবে কনে বিদায়ের দিনের রিচুয়ালগুলো।
বাসি-বিয়ে হতে না হতেই মেয়ের বাড়ির সবার একসঙ্গে মুড সুইং! এই তো একটু আগেই সকালে যে তন্বী, “জিজু, দশ হাজার শয্যতুলনীর চেয়ে এক পয়সা কম হবে না” বলে নাচছিল, সেও মুখ গোমড়াপানা করে এমনভাবে তাকাবে, যেন কোনও পোটেনশিয়াল কিডন্যাপার বাড়িতে ঢুকে পড়েছে! বরের যে বন্ধুরা গতকাল রাতেও— “চিন্তা নেই। আমরা আছি” বলে সঙ্গে থেকেছিল, তাদের একটাকেও দেখা যাচ্ছে না। সঙ্গে বউয়ের কয়েকপিস তুতো বোনও সকাল থেকে মিসিং।
সদ্য বিয়ে করা বউ মাঝেমাঝেই আকাশের দিকে তাকাচ্ছে আর চোখের জল ফেলছে। জিজ্ঞেস করতে গেলে বলছে, “তোমরা বুঝবে না।” কিছুই না বুঝে তোম্বা মেরে বসে থাকার সেই শুরু। এটা বাকি বিবাহিত জীবন কন্টিনিউ করবে। শালারা এমন হাবভাব করছে, মুখ দেখলেই মনে হচ্ছে কেন ‘শালা’ শব্দটা গালাগালি হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
ভালোর মধ্যে একমাত্র মেয়ের বউদি-স্থানীয়রা। তারা বেশ খুশি হয়ে গল্প জমাচ্ছে। অনেকদিন তাদের এত খুশি দেখা যায়নি। এই খুশির কারণ আপনি তখন না-বুঝলেও পরে বোঝার সমূহ-সম্ভাবনা। মাঝেমাঝেই শ্বশুর এসে— “বাবা কিছু অসুবিধে হচ্ছে না তো?” বলে জিজ্ঞেস করে যাচ্ছেন। এই প্রশ্নের একটাই উত্তর, “না”। কারণ, “হ্যাঁ” বললে উত্তর আসবে, “কী আর করবে, একটু মানিয়ে গুছিয়ে নাও। তুমি তো আজ থেকে এই বাড়িরই ছেলে।” শাশুড়ি এসে লুচি আর আলুর তরকারি প্লেটে বেড়ে দিচ্ছেন। সঙ্গে একপিস রসগোল্লা আর বেশ খানিকটা দীর্ঘশ্বাস। বরের মরাল-এস্টিম তখন একেবারে তলায়। এরপরেই সেই ভয়ানক প্রশ্ন, “তোমরা কখন যাবে বাবা?”
আজ অবধি কোনও বরকে আমি স্মার্টলি এটার উত্তর দিতে দেখিনি। বেশিরভাগই তুতলিয়ে বলে, “ওই আপনারা যেমন বলেন আর কী। মানে তাড়াতাড়ি বেরলে ভালো হত কি না! বাবাকে জিজ্ঞাসা করব?”
“তুমি বিয়ে করছ, বড় হয়েছ। এখন সব কথা কি বাবাকে জিজ্ঞেস করলে চলে?”
খানিকবাদে কড়ি-খেলা ইত্যাদিতে একটু হাঁফ ছাড়তে না ছাড়তে একত্রে মাথায় জল ঢেলে স্নান। নতুন বউ ততক্ষণে রোরুদ্যমানা! তার দেখাদেখি বাড়ির সবাই কাঁদছে। একমাত্র বর ছাড়া। সে খুব সিরিয়াস মুখ করে বসে রয়েছে, যেন জয়েন্টের রেজাল্ট বেরবে!
এরপরেই সেই ভয়ানক কাজ। মেয়ের বিদায়। অন্যদের কথা জানি না, আমার অন্তত মনে হয়েছিল এত মানুষ কাঁদছে, কেউ দাঁড়িয়ে, কেউ বসে, কেউ শুয়ে পড়ে, কেউ হাঁটতে হাঁটতে, কেউ মুখে আঁচল-চাপা দিয়ে, কেউ হাউহাউ করে, কেউ চোখের জলের সঙ্গে নাকের জল মিশিয়ে... এত কিছুর আসল কারণ আমি! মানে আমিই তো!
এক কোণে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছি। হাতে দর্পণ। সঙ্গে কলাগাছের ঘাড় মটকে গিয়েছে। আমিই আগে গাড়িতে গিয়ে বসলাম। বউকে ধরাধরি করে উঠিয়ে দিল তিন-চারজন। সে সিট থেকে পিছলে পড়ে যায়, আর কি!
সমবেত কান্নার রোল উঠল পিছনে। গাড়ি এগিয়ে গেল।
আধা কিলোমিটারও যাইনি। বউ দেখি স্পষ্ট গলায় ড্রাইভারকে বলছে, “কাকু বাঁ-দিকের গলিটা নেবেন। শর্টকাট হবে।”
অবস্থান ও ঠিকানা
জেলা: Malda