অভিষেক ব্যানার্জী ছিলেন সেই ব্যক্তি যিনি প্রমাণ করে ছেড়েছিলেন যে রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে তাঁর পিসিমনি লড়ঝরে করে দিয়েছেন। তাঁর রিপাবলিক অফ ডায়মন্ড হারবারে কোভিড কালে তিনি নাকি সারা রাজ্যের তুলনায় সংক্রমণ কমিয়ে দিয়েছিলেন। তারপর চালু হলো তাঁর "সেবাশ্রয়" নামক চিকিৎসা শিবির। "নামী দামি" ডাক্তার, বিশাল ব্যবস্থা, অভিষেক নিজে তদারকি করছেন! মানুষও ভড়কে গিয়ে উজাড় হয়ে পড়লো। কিন্তু জাতে মাতাল তালে ঠিক অভিষেক নিজের চিকিৎসা সবসময় হয় সিঙ্গাপুরে আর নয় আমেরিকার জন হপকিন্সে করিয়েছেন। এবারেও চোখ দেখানোর জন্য কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি, হাইকোর্ট বলে দিয়েছে আগে পিজি হাসপাতালের ডাক্তারবাবুরা ওনাকে পরীক্ষা করুন, যদি দেখা যায় এদেশে হবেনা তখন কোর্ট অনুমতি দেবে। যা বলছিলাম.....এই সেবাশ্রয়! সরকারে থেকে সরকারী দলে থেকে যখনই কেউ এমন উদ্যোগ নেয় জানবেন ডাল মে কুছ কালা নেহি!..... বলকে বহুত সারা কালা মে কহিঁ পর ভি এক বুঁদ ডাল নজর নেহি আ রাহা হে! এখন আরেক ববি সব বের করছেন! কার ছানি কাটাতে গিয়ে রেটিনায় ধানি লঙ্কা ঘষে দেওয়া হয়েছে, কারোর হাত.....ইয়ে হাত মুঝে দে দে ঠাকুর... বলে কেটে নেওয়া হয়েছে, কাউকে অতিরিক্ত শ্রদ্ধা করতে গিয়ে তার শ্রী চরণ কেটে নিয়ে বাড়ি ফিরেছে সেবাশ্রয়!
প্রধানমন্ত্রী মুখ্যমন্ত্রী যদি দেশের রাজ্যের সাংসদ বিধায়ক দের সাথে বৈঠক করেন বা একসঙ্গে ছবি তোলেন সেটা নিয়ে হইচই পড়েনা, পারস্পরিক রাজনৈতিক বিরোধিতা থাকলেও পড়েনা। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সাথে তৎকালীন হোম মিনিস্টার লালকৃষ্ণ আডবানীর এমন বহু ছবি আছে। সেগুলোকে আমরা কেন্দ্র রাজ্য সম্পর্ক অথবা রাজনৈতিক সৌজন্যের নিরীখেই দেখেছি, কিন্তু এই NCPI নামক যে একটি বায়বীয় অথচ ক্রনিক রোগীদের গোষ্ঠী দিল্লিতে একদম "ডাক্তার" শুভেন্দু অধিকারীর কাছে চেক আপে চলে গেলেন তাঁরা হয়তো জানেন না যে শেষ পর্যন্ত তাঁদের ICU তে দিনের পর দিন কোমায় ফেলে রেখে আয়ুষ্মান ভারতের পুরো বীমাকৃত অর্থ হজম করে নেবেন কিনা ডাক্তারবাবু। এদিকে পাড়ায় পাড়ায় গোবর গঙ্গাজল খেয়ে লিভার বাড়ানো পদ্মের ডাঁটা দের হাসপাতালের বেডে স্যালাইন দিয়ে ম্যালাইন করা হচ্ছে আর ওপরে আপনারা পাপড়ি বাড়িয়ে বাড়িয়ে একদম সহস্র দল পদ্ম বানিয়ে চলেছেন! শমীক বাবু মার্শাল সেজে এদিক থেকে ছড়ি নিয়ে তাড়া করছেন পরক্ষণেই লাস্ট বেঞ্চ থেকে ডেপো ছেলে মেয়েদের তুলে এনে অশৌচের উত্তরীয় পরিয়ে দিচ্ছেন। কুনাল ঘোষ কে চ্যাং দোলা করে বিধানসভা থেকে বের করে দেওয়া মার্শাল কে গতকাল বিধানসভা থেকেই বহিষ্কার করা হয়েছে! রূপক টা লক্ষ্য করুন!
যে গ্রুপফি টা বাজারে ছেরিয়েছে সেটার দিকে ভালো করে তাকালেই দেখবেন ওটা একটা আস্ত মাল্টি সুপার স্পেশালিটি হসপিটাল! ডার্মাটোলজি বিভাগে পরচুলো সুদীপ, পাশেই নন মেডিক্যাল হসপিটাল ইনফ্রাস্ট্রাকচারের কাকলী ফার্নিচার! জন্ম নিয়ন্ত্রণ বিভাগের ডিন সায়নী (সুবিধা) ঘোষ, আতঙ্ক গ্রস্ত মাস্টারমশাই দের তাঁরা যে আসলে কিছুই দেখেননি সেটা বুঝিয়ে সাইকোলজিক্যাল কাউন্সেলিং করবেন শতাব্দী রায়, মালা রায় বিবাহযোগ্যা মেয়েদের ঠোঁটের ওপরে কালো তিল থাকলে অহেতুক সেটাকে অপারেট করতে নিষেধ করে বুঝিয়ে দেবেন ওটা থাকলেও নির্মেদ জিম করা নির্বেদ স্বামী পাওয়া যায়! বর্ষার সময় হাসপাতালের চেস্ট মেডিসিনের ফুসফুসে কুইন্টাল কুইন্টাল জল ঢুকে গেলে কিভাবে নল দিয়ে সেই জল বের করে আনতে হয় সেটা রচনা দেখবেন, হাসপাতালের প্রবেশ পথ থেকে ইমারজেন্সি বিভাগের হাঁটা পথের দুধারে ছেঁটে চাষ করা হবে জুন ঘাস রোগীর আত্মীয়দের মেণ্টাল স্ট্রেস কমানোর জন্য।
এই "সেবা" এবং "আশ্রয়" দুয়ের বিরুদ্ধে মানুষ ভোট দিয়েছিল। তারা বোধহয় বোঝেনি যে রাম রাবণ গ্রীন রুমে একসাথে মেক আপ নেয়, তারপর আবার মঞ্চে উঠে পরস্পরের বিরুদ্ধে যুদ্ধু করে, তারপর যাত্রা শেষে মুখে স্পিরিট গামের গন্ধ নিয়ে রাম রাবণ কেই নিজের সাইকেলের সামনের রডে বসিয়ে বাড়ি পৌঁছে দেয়। অবতার পুরুষ দের ধর্মই হলো উদ্ধার করা, যত পাপী তাপী পতিত আছে সবাইকে শরণ দেওয়া, এইটুকু লীলা চঞ্চলতা আপনারা না বুঝলে এইসব রাজনৈতিক আখ্যান বুঝবেন কি ভাবে? আজ যিনি মহাকবি বাল্মীকি হয়ে অবতীর্ণ হয়েছেন তিনিও তো পূর্ব জন্মে দস্যু রত্নাকর ছিলেন! তাই বলে কি রামায়ণের মাহাত্ম্যের হানি হয়! মহামতি অস্কার ওয়াইল্ড বলেছিলেন না.......
প্রত্যেক সাধুর একটি করে অতীত আছে, আর প্রত্যেক পাপীর একটি করে ভবিষ্যত।
©বিশ্বজিৎ চন্দ



